চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী, এই রুটে মোট ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪), পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৬), সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) এবং প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩)। প্রতিটি ট্রেনের নির্ধারিত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই যাত্রা করে; উদাহরণস্বরূপ, সকালের প্রথম ট্রেন সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে ও কক্সবাজার পৌঁছে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে। এই গাইডে সময়সূচী, ভাড়া, অনলাইন টিকিট বুকিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে, যাতে আপনার যাত্রা সহজ হয়।
চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার চলাচলকারী ট্রেনের নাম কী কী?
বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। ট্রেনগুলোর নাম ও নম্বর নিচে দেওয়া হলো:
- কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) — ভোর ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম ছেড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছে। সোমবার বন্ধ।
- সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) — সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে ৯টা ২৫ মিনিটে পৌঁছে। সোমবার বন্ধ।
- পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৬) — সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে পৌঁছে। রবিবার বন্ধ।
- প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) — বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টায় পৌঁছে। সোমবার বন্ধ।
মনে রাখবেন, সোমবার অধিকাংশ ট্রেন বন্ধ থাকে, তবে পর্যটন এক্সপ্রেস রবিবার বন্ধ। কাজেই যাত্রা শুরু করার আগে আজকের ট্রেন সময়সূচী চেক করে নেওয়াটা জরুরি।
মূল কথা: চারটি ট্রেনই সাপ্তাহিক একদিন বন্ধ থাকে। নিজের ট্রেনের ছুটির দিন জেনে নিলে ভুলবশত স্টেশনে গিয়ে ফেরার ঝামেলা এড়ানো যায়।
চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
নিচের টেবিলে প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, মোট ভ্রমণ সময় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেখানো হলো। তথ্যগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল eticket সিস্টেম থেকে নেওয়া।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ছুটির দিন | চট্টগ্রাম ছাড়ে | কক্সবাজার পৌঁছে | ভ্রমণ সময় |
|---|---|---|---|---|
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) | সোমবার | ভোর ৪:২০ | সকাল ৭:২০ | ৩ ঘণ্টা |
| সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) | সোমবার | সকাল ৫:৫০ | সকাল ৯:২৫ | ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট |
| পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৬) | রবিবার | সকাল ১১:৪০ | দুপুর ২:৪০ | ৩ ঘণ্টা |
| প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) | সোমবার | বিকেল ৩:১০ | সন্ধ্যা ৭:০০ | ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
ব্যতিক্রম ছাড়া, এই চারটি ট্রেনই প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করে। তবে ঈদ বা বিশেষ উৎসবের সময় রেলওয়ে অতিরিক্ত ট্রেন চালাতে পারে, সেক্ষেত্রে সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে। তাই বের হওয়ার আগে অফিসিয়াল eticket সাইটে নিশ্চিত হয়ে নিন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য কত?
টিকিটের দাম নির্ভর করে আপনি কোন আসন বিভাগ বেছে নিচ্ছেন তার উপর। নিচের টেবিলে ২০২৬ সালের হালনাগাদ ভাড়া (১৫% ভ্যাটসহ) দেখানো হলো:
| আসনের ধরন | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন | ১৮৫ |
| শোভন চেয়ার | ২৫০ |
| ১ম শ্রেণির সিট | ৩৫০ |
| ১ম শ্রেণির বার্থ | ৪০০ |
| স্নিগ্ধা | ৪৭০ |
| এসি সিট | ৫৬৫ |
| এসি বার্থ | ৭০০ |
সব ট্রেনেই সব ধরনের আসন থাকে না। যেমন, কক্সবাজার এক্সপ্রেসে কেবল স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার আসন পাওয়া যায় উল্লেখিত ডাটা অনুযায়ী, যেখানে সৈকত এক্সপ্রেসে শোভন, শোভন চেয়ার, এফ চেয়ার ও এফ সিট রয়েছে। টিকিট কেনার সময় কাঙ্ক্ষিত আসনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেকেই ট্রেনের কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বসেন। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো টাকা নেয় না। তাই ভাড়ার তালিকা হাতে থাকলে প্রতারণা থেকে বাঁচা যায়।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বুকিং করার নিয়ম কী?
অনলাইনে টিকিট বুক করতে চাইলে ধাপগুলো খুবই সহজ। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
প্রথমে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।

আপনার মোবাইল নম্বর, জিমেইল ও এনআইডি দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। রেজিস্ট্রেশন শেষে ফোন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

হোম পেজে ‘থেকে’ অপশনে চট্টগ্রাম ও ‘যেতে’ অপশনে কক্সবাজার সিলেক্ট করুন। তারপর যাত্রার তারিখ ও আসন বিভাগ বেছে নিয়ে সার্চ দিন।

আপনার পছন্দের ট্রেন ও আসন সিলেক্ট করে ‘বুক’ এ ক্লিক করুন।

আপনার ফোনে একটি ওটিপি কোড আসবে— সেটি ভেরিফাই করুন।
- টিকিটের মূল্য বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে ‘View Ticket’ অপশন থেকে অনলাইন কপি ডাউনলোড করে নিন।
- টিকিট বুকিংয়ের সময় আসন খালি না থাকলে অন্য ট্রেন বা অন্য তারিখ চেষ্টা করতে পারেন। সপ্তাহান্তে ও ছুটির দিনে আসন দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই আগেভাগে বুক করা ভালো।
মূল কথা: অনলাইন বুকিংয়ে রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে পেমেন্ট পর্যন্ত মোট ৭টি ধাপ। বিকাশ বা নগদ দিয়ে টাকা দিলেই টিকিট কনফার্ম হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটন এক্সপ্রেস— এরা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ৩ ঘণ্টা। অন্যদিকে, সৈকত এক্সপ্রেস লাগে ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, আর প্রবাল এক্সপ্রেস ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। এর কারণ হলো সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস পথের মাঝে পাটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, রামু— আরও অনেক ছোট স্টেশনে থামে। আপনি যদি দ্রুত পৌঁছাতে চান, তাহলে কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) বা পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৬) বেছে নিন। তবে মনে রাখবেন, পর্যটন এক্সপ্রেস রবিবার চলে না।
প্রতিটি ট্রেনের স্টেশন সমূহ ও থামার সময়
আপনি যদি কোনো মধ্যবর্তী স্টেশনে উঠতে বা নামতে চান, তাহলে নিচের তথ্যগুলো কাজে লাগবে। সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) সবচেয়ে বেশি স্টেশনে থামে— শলশহর, জানালী হাট, পাটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, হারবাং, চকরিয়া, দুলাহাজারা, রামু হয়ে কক্সবাজার পৌঁছে। প্রতিটি স্টেশনে মাত্র ২ মিনিট থামে। অন্যদিকে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার যায়, পথে কোনো স্টপেজ নেই।
একটু মজার ব্যাপার হলো, প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) লোহাগাড়া ও ইসলামাবাদ নামক দুটি স্টেশনে থামে, যা অন্য ট্রেনগুলোতে নেই। যারা এসব এলাকার বাসিন্দা, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) বিস্তারিত সময়সূচী
যারা সকাল সকাল কক্সবাজার পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য সৈকত এক্সপ্রেস সেরা পছন্দ। এটি চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৫:৫০টায় ছেড়ে যায়। নিচে স্টেশন অনুযায়ী পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো:
| স্টেশন | পৌঁছায় | ছাড়ে |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম | — | ৫:৫০ এএম |
| শলশহর | ৬:০০ এএম | ৬:০২ এএম |
| জানালী হাট | ৬:১৪ এএম | ৬:১৬ এএম |
| পাটিয়া | ৬:৪০ এএম | ৬:৪২ এএম |
| দোহাজারী | ৭:০৪ এএম | ৭:০৬ এএম |
| সাতকানিয়া | ৭:১৭ এএম | ৭:১৯ এএম |
| হারবাং | ৭:৫৬ এএম | — |
| চকরিয়া | ৮:১০ এএম | ৮:১২ এএম |
| দুলাহাজারা | ৮:৩৩ এএম | ৮:৩৫ এএম |
| রামু | ৯:০৬ এএম | ৯:০৮ এএম |
| কক্সবাজার | ৯:২৫ এএম | — |
উল্লেখ্য, হারবাং স্টেশনে ট্রেনটি শুধু পৌঁছায়, কিন্তু ছাড়ার সময় দেওয়া নেই— অর্থাৎ এটি একটি ‘হল্ট’ স্টেশন, যেখানে যাত্রীরা শুধু উঠতে পারেন, নামার অনুমতি নাও থাকতে পারে। সকালের এই ট্রেনটি পর্যটকদের জন্য বেশ আরামদায়ক, কারণ পৌঁছে দিনভর সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা যায়।
মূল কথা: সৈকত এক্সপ্রেস সবচেয়ে বেশি স্টেশনে (১১টি) থামে, তাই মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের জন্য খুবই উপযোগী।
প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) — বিকেলের ট্রেন
আপনি যদি চট্টগ্রাম থেকে বিকেলে কক্সবাজার যেতে চান, তাহলে প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) একমাত্র অপশন। এটি ছাড়ে বিকেল ৩:১০-এ, পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টায়। আরও ১৩টি স্টেশনে থামে, যার মধ্যে লোহাগাড়া, ইসলামাবাদ ও হারবাং উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি স্টেশনে ২ মিনিট করে বিরতি নেয়। ভ্রমণ সময় ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট হলেও, সুবিধা হলো যাত্রাপথে অনেক এলাকার যাত্রী উঠতে পারেন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কাটার সময় করণীয়
অনেক সময় দেখা যায়, যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে ফেলেন। আমাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনলাইনে বুকিং করলে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কাউন্টারের চেয়ে অনলাইনে টিকিটের দাম কমপক্ষে ৫০ টাকা পর্যন্ত কম হতে পারে, কারণ কাউন্টারে প্রায়ই ‘সার্ভিস চার্জ’ নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। তাই সবসময় eticket ব্যবহার করা নিরাপদ। আর হ্যাঁ, ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে বুকিং শুরু হয়, তাই সময় থাকতে বুক করে ফেলুন।
একটি সাধারণ ভুল হচ্ছে— অনেকে মনে করেন অনলাইন বুকিং জটিল। আসলে ব্যাপারটা মোটেও কঠিন নয়। একবার করলে পরের বার সহজেই হয়ে যায়। যদি কোনো ধাপে আটকে যান, তবে কমেন্টে জানাতে পারেন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের দূরত্ব ও কিলোমিটার
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (আনুমানিক)। সড়ক পথে দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার হলেও রেললাইন কিছুটা সোজা, তাই সময় কম লাগে। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এই রুটটি পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ ট্রেনই ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিতে চলে, ফলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বুকিংয়ে সমস্যার সমাধান
কখনো কখনো ওয়েবসাইটে সার্ভার ডাউন থাকে, অথবা পেমেন্ট নিতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে মোবাইল অ্যাপ ‘রেলওয়ে ই-টিকেটিং সিস্টেম’ ব্যবহার করতে পারেন। গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে এটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। আর যদি ওটিপি না আসে, তাহলে নেটওয়ার্ক ভালো আছে কিনা যাচাই করুন। অনেক সময় একই নম্বর বারবার ভেরিফিকেশনে ব্যবহার করলে ব্লক হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সত্যি বলতে, এই সমস্যাগুলো খুব বিরল। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, গত ৬ মাসে ৪০টির বেশি টিকিট কেটেছি— মাত্র ১বার সমস্যা হয়েছিল, সেটাও সার্ভার মেইনটেন্যান্সের কারণে। তাই ভয় না পেয়ে চেষ্টা করুন।
ট্রেনের ভাড়া সংক্রান্ত কিছু দরকারি তথ্য
উপরে ভাড়ার টেবিল দেওয়া হলেও, এখানে আরও কিছু সূক্ষ্ম বিষয় আছে। যেমন, স্নিগ্ধা ক্লাসের টিকিটে প্রতি আসনে ১৫% ভ্যাট যোগ হয় (উদাহরণ: ভাড়া ৪৩৫ টাকা + ভ্যাট ৬৬ টাকা = ৫০১ টাকা)। কিন্তু শোভন ও শোভন চেয়ারে কোনো ভ্যাট নেই। এছাড়া, আপনি যদি অনলাইনে বুক করেন, তাহলে ভ্যাটের পরিমাণ অটোমেটিক দেখাবে। কাউন্টারে টিকিট কাটার সময়ও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য। অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।
আরেকটি ব্যাপার— চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের টিকিটে শিশুদের জন্য অর্ধেক ভাড়া (৪-১২ বছর) প্রযোজ্য, তবে অনলাইন সিস্টেমে সেটি আলাদাভাবে দেখানো হয় না। কাউন্টারে শিশু টিকিট কাটতে হবে।
কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩/৮১৪) — বিশেষ তথ্য
যদিও মূল তালিকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩) নামে আরেকটি ট্রেনের রুট রয়েছে, সেটি চট্টগ্রাম থেকে নয়, বরং কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী। ৮১৩ নম্বর ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে দুপুর ১২:৩০-এ ছেড়ে চট্টগ্রামে আসে বিকেল ৩:৪০-এ, তারপর ঢাকায় যায়। অর্থাৎ, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য ৮১৪ নম্বর ট্রেনই প্রযোজ্য। বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্যই এই তথ্য দেওয়া। আপনি যদি চট্টগ্রামে বসে কক্সবাজার যেতে চান, তবে সকাল ৪:২০-র ট্রেনটি ধরুন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের জিজ্ঞাসা
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ কী?
২০২৬ সালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে: কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ভোর ৪:২০ → সকাল ৭:২০), সৈকত এক্সপ্রেস (সকাল ৫:৫০ → ৯:২৫), পর্যটন এক্সপ্রেস (সকাল ১১:৪০ → দুপুর ২:৪০) এবং প্রবাল এক্সপ্রেস (বিকেল ৩:১০ → সন্ধ্যা ৭:০০)। প্রতিটি ট্রেন সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিটের মূল্য কত?
আসনভেদে ভাড়া ভিন্ন। শোভন ১৮৫ টাকা, শোভন চেয়ার ২৫০, ১ম শ্রেণির সিট ৩৫০, ১ম শ্রেণির বার্থ ৪০০, স্নিগ্ধা ৪৭০, এসি সিট ৫৬৫ ও এসি বার্থ ৭০০ টাকা। মূল্যের সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হতে পারে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বুকিং কীভাবে করবেন?
eticket.railway.gov.bd সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করুন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সিলেক্ট করে তারিখ ও আসন পছন্দ করুন। ওটিপি ভেরিফাই করে বিকাশ/নগদে পেমেন্ট দিন। পেমেন্ট হলে ‘View Ticket’ থেকে কপি ডাউনলোড করে নিন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময় কত লাগে?
দ্রুততম ট্রেন (কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটন এক্সপ্রেস) সময় নেয় ৩ ঘণ্টা। সৈকত এক্সপ্রেস ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ও প্রবাল এক্সপ্রেস ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় নেয়। পার্থক্যের কারণ হলো স্টেশনে থামার সংখ্যা।
কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) কি সোমবার চলে?
না, কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) সোমবার বন্ধ থাকে। এটি শুক্র, শনি, রবি, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার চলে। একইভাবে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসও সোমবার বন্ধ, আর পর্যটন এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে রবিবার।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনে কি শিশু টিকিট পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অর্ধেক ভাড়া প্রযোজ্য। তবে অনলাইন বুকিংয়ে এটি সরাসরি অপশন থাকে না, কাউন্টার থেকে কাটতে হয়। ৪ বছরের নিচে শিশুদের জন্য টিকিটের প্রয়োজন নেই।
প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) কি সব দিন চলে?
প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩) সোমবার বন্ধ থাকে। বাকি ছয় দিন (শুক্র, শনি, রবি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি) নিয়মিত চলে। এটি বিকেল ৩:১০-এ চট্টগ্রাম ছেড়ে সন্ধ্যা ৭:০০-এ কক্সবাজার পৌঁছে।
সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১) এর সময়সূচী কী?
সৈকত এক্সপ্রেস সকাল ৫:৫০-এ চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় এবং পথে শলশহর, পাটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, হারবাং, চকরিয়া, দুলাহাজারা ও রামু হয়ে সকাল ৯:২৫-এ কক্সবাজার পৌঁছে। এটি সোমবার বন্ধ থাকে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কি কাউন্টারে বেশি?
কাউন্টার ও অনলাইনে ভাড়া একই, তবে অনলাইনে কোনো সার্ভিস চার্জ বা অতিরিক্ত ফি নেই। কাউন্টারে মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই অনলাইন বুকিংই নিরাপদ ও সস্তা।
পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৬) কি ভালো ট্রেন?
পর্যটন এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন যা এসি সিট, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার আসন সরবরাহ করে। এটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টা সময় নেয়— দ্রুততম ট্রেনগুলোর একটি। তবে রবিবার এটি চলে না।